আবরার হত্যা: বুয়েট ছাত্র হত্যার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে শিক্ষার্থীরা। যার পক্ষে মত দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের শাখার পরিচালক মিজানুর রহমান। বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে সকাল থেকেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর আসছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।

মঙ্গলবার সকালে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক মিজানুর রহমান ক্যাম্পাসে এসে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন।

তিনি সোমবার ঘটনাস্থল থেকে “পলায়ন করেছেন” বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে বলে দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

আবরারের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার থেকে টানা বিক্ষোভ চলছে বুয়েট ক্যাম্পাসে।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের দাবি:

  • অভিযুক্ত ছাত্রদের ৭২ ঘন্টার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।
  • শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর বিকাল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
  • আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ ও মামলার খরচ বুয়েটকে বহন করতে হবে।
  • হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
  • মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে বিকাল ৫ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

আরো দাবি:

আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে বলে দাবি ওঠে বুয়েটের বিক্ষোভ থেকে।

একই সাথে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ নভেম্বর,২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বুয়েট শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়েছে বুয়েটের শিক্ষক সমিতি।

বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরাও সেখানে আজ মানববন্ধন করেছেন।

আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সকাল থেকে ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সহ দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা একটি গায়েবানা জানাজারও আয়োজন করেন।

বরিশাল থেকে সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, শহরের টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করেছে ছাত্র ফেডারেশন।

ময়মনসিংহেও ছাত্ররা মানববন্ধন করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ার যে গ্রামে সেখানে বিক্ষোভ দেখিয়েছে গ্রামবাসীরা।

কুষ্টিয়ার ছেলে আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সোমবার ভোরের দিকে আহত অবস্থায় তাকে তাঁর হলের দোতলায় সিঁড়িতে পাওয়া যায়।

তার শরীরে ভোতা কোন বস্তু দিয়ে থেঁতলে দেয়ার অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে।

যেদিন রাতে তাকে পাওয়া গেছে তার আগের দিনই মাত্র বাড়ি থেকে হলে এসেছিলেন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে। সৌজন্যে : বিবিসি বাংলা অনলাইন।

আপনার মন্তব্য কী?